ঢাকার পাইকারি থ্রিপিস হোলসেল দোকান
পাইকারি থ্রিপিস হোলসেল কোথায় পাওয়া যায়, ব্যবসার জন্য কোন ধরনের থ্রিপিস নির্বাচন করবেন এবং বড় অর্ডারের আগে কী কী বিষয় যাচাই করতে হবে—এসব নিয়ে পরিকল্পনা করছেন? এই গাইডটি বুটিক মালিক, অনলাইন পোশাক বিক্রেতা, ফেসবুক পেজভিত্তিক ব্যবসায়ী, খুচরা দোকানি, পুনর্বিক্রেতা এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
ঢাকায় পাইকারি থ্রিপিস কেনার জন্য গাউছিয়া, নিউমার্কেট, চাঁদনী চক এবং আশপাশের পোশাকের বাজারগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। একই এলাকায় বিভিন্ন দোকান ও সরবরাহকারী থাকায় ক্রেতারা কাপড়, নকশা, রং, সেলাই, কারুকাজ এবং দামের মধ্যে তুলনা করার সুযোগ পান। তবে শুধু কম দাম দেখে বেশি পরিমাণে থ্রিপিস কেনা ব্যবসার জন্য নিরাপদ সিদ্ধান্ত নয়।
একটি থ্রিপিসের কাপড় আরামদায়ক কি না, সেলাই পরিষ্কার কি না, রং ওঠার আশঙ্কা আছে কি না, লক্ষ্য ক্রেতাদের মধ্যে নকশাটির চাহিদা থাকবে কি না এবং ত্রুটিপূর্ণ পণ্য পরিবর্তনের সুযোগ আছে কি না—এসব বিষয় আগে যাচাই করা প্রয়োজন।
বাজারে যাওয়ার আগে বর্তমান নকশা ও পণ্যের ধরন সম্পর্কে ধারণা নিতে বিডি মেড ফ্যাশনের হোমপেজ এবং সালোয়ার কামিজের সংগ্রহ দেখতে পারেন। এতে সেলাই করা, সেলাইবিহীন, দৈনন্দিন, উৎসব এবং বুটিক থ্রিপিসের সম্ভাব্য ধরন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সহজ হবে।
ঢাকায় পাইকারি থ্রিপিস হোলসেল কেন জনপ্রিয়?
ঢাকা দেশের অন্যতম প্রধান পোশাক বাণিজ্যকেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বুটিক মালিক, খুচরা দোকানি এবং অনলাইন বিক্রেতারা ঢাকায় এসে পোশাক ও কাপড় সংগ্রহ করেন।
ঢাকায় পাইকারি থ্রিপিস হোলসেল কেনাকাটা জনপ্রিয় হওয়ার কয়েকটি কারণ হলো—
- একই এলাকায় অনেক পোশাকের দোকান ও সরবরাহকারী পাওয়া যায়
- বিভিন্ন বাজেটের থ্রিপিস দেখার সুযোগ থাকে
- সেলাই করা ও সেলাইবিহীন—দুই ধরনের পোশাক পাওয়া যায়
- কাপড়, রং, ছাপা ও কারুকাজে বৈচিত্র্য থাকে
- একাধিক দোকানের পণ্য ও মূল্য তুলনা করা যায়
- অর্ডারের পরিমাণ অনুযায়ী দরদামের সুযোগ থাকতে পারে
- নতুন ও মৌসুমি নকশা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়
- বুটিক ও অনলাইন ব্যবসার জন্য পণ্য সংগ্রহ করা যায়
- দৈনন্দিন, অফিস ও উৎসবের পোশাক একসঙ্গে দেখা যায়
- অল্প পরিমাণ দিয়ে পরীক্ষামূলক ব্যবসা শুরু করা সম্ভব হতে পারে
তবে বড় বাজারে পণ্যের মান, মূল্য এবং অর্ডারের শর্ত দোকানভেদে ভিন্ন হতে পারে। একই ধরনের থ্রিপিস দেখতে প্রায় একই হলেও কাপড়ের গুণমান, ছাপার স্থায়িত্ব, সেলাই এবং ওড়নার মানে পার্থক্য থাকতে পারে।
এ কারণে বাজারে যাওয়ার আগে তিনটি বিষয় ঠিক করে নেওয়া ভালো—
- কী ধরনের থ্রিপিস কিনবেন
- মোট বাজেট কত
- প্রাথমিকভাবে কতটি পণ্য প্রয়োজন
পাইকারি থ্রিপিস বলতে কী বোঝায়?
সাধারণভাবে একটি বা দুটি পোশাক ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কেনাকে খুচরা কেনাকাটা বলা হয়। অন্যদিকে ব্যবসা, পুনর্বিক্রয়, বুটিক বা দোকানের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে একসঙ্গে পণ্য কেনাকে পাইকারি কেনাকাটা বলা হয়।
পাইকারি অর্ডারের নিয়ম সরবরাহকারীভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো বিক্রেতা নির্দিষ্ট সংখ্যক থ্রিপিস নিলে পাইকারি মূল্য দিতে পারেন। আবার কেউ একই নকশার সম্পূর্ণ রঙের সেট, মিশ্র ডিজাইনের প্যাকেজ অথবা নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্ডারকে পাইকারি হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন।
অর্ডারের আগে নিশ্চিত হয়ে নিন—
- সর্বনিম্ন কতটি থ্রিপিস নিতে হবে
- বিভিন্ন নকশা মিলিয়ে নেওয়া যাবে কি না
- একই ডিজাইনের সব রং নিতে হবে কি না
- সাইজ মিলিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে কি না
- ছোট ও বড় অর্ডারের মূল্য আলাদা কি না
- নিয়মিত ব্যবসায়ীদের জন্য পুনরায় অর্ডারের ব্যবস্থা আছে কি না
- ত্রুটিপূর্ণ পণ্য পরিবর্তন করা যাবে কি না
ঢাকায় কী ধরনের পাইকারি থ্রিপিস পাওয়া যায়?
ঢাকার পোশাকের বাজার ও নির্দিষ্ট সরবরাহকারীদের কাছে বিভিন্ন ধরনের থ্রিপিস পাওয়া যেতে পারে। ব্যবসার ধরন এবং লক্ষ্য ক্রেতা অনুযায়ী সঠিক পণ্যের বিভাগ নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।
সেলাই করা থ্রিপিস
সেলাই করা থ্রিপিস এমন ক্রেতাদের জন্য উপযোগী, যারা পণ্য সংগ্রহ করে সরাসরি বিক্রি করতে চান। এতে আলাদা করে দর্জির মাধ্যমে পোশাক তৈরি করার প্রয়োজন হয় না।
সাধারণত পাওয়া যেতে পারে—
- সম্পূর্ণ সেলাই করা থ্রিপিস
- কটন থ্রিপিস
- রেয়ন বা ভিসকস থ্রিপিস
- ডিজিটাল প্রিন্ট থ্রিপিস
- এমব্রয়ডারি করা থ্রিপিস
- মিরর ওয়ার্কের থ্রিপিস
- দৈনন্দিন ব্যবহারের থ্রিপিস
- অফিসে পরার থ্রিপিস
- উৎসব ও অনুষ্ঠানের থ্রিপিস
- বিভিন্ন মাপের তৈরি পোশাক
বর্তমান ডিজাইন ও পোশাকের ধরন দেখতে সেলাই করা সালোয়ার কামিজের সংগ্রহ দেখা যেতে পারে।
সেলাইবিহীন থ্রিপিস
সেলাইবিহীন থ্রিপিস এমন ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়, যারা নিজের মাপ ও পছন্দ অনুযায়ী পোশাক তৈরি করতে চান। দর্জিভিত্তিক ব্যবসা, বুটিক এবং কাস্টমাইজড পোশাক বিক্রেতাদের জন্য এই বিভাগ কার্যকর হতে পারে।
সাধারণত একটি সেলাইবিহীন থ্রিপিসে থাকে—
- কামিজের কাপড়
- সালোয়ার বা প্যান্টের কাপড়
- ওড়না
- গলা বা সামনের অংশের নকশা
- হাতার কাপড়
- এমব্রয়ডারি বা ছাপার কাজ
- মিলিয়ে দেওয়া কাপড়ের অংশ
পণ্যের কাপড়, রং, ওড়না ও ডিজাইনের বৈচিত্র্য বুঝতে সেলাইবিহীন সালোয়ার কামিজের সংগ্রহ দেখা যেতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে কোরাল অরেঞ্জ সেলাইবিহীন থ্রিপিস পেজে কামিজ, ওড়না, ট্রাউজারের কাপড় এবং নকশাসংক্রান্ত তথ্য কীভাবে দেওয়া হয়েছে তা দেখা যায়।
বুটিক থ্রিপিস
বুটিক থ্রিপিস সাধারণত নকশা, কাপড়, কারুকাজ এবং উপস্থাপনায় তুলনামূলকভাবে আলাদা হয়ে থাকে। যারা সাধারণ বাজারের পোশাকের পাশাপাশি একটু স্বতন্ত্র সংগ্রহ রাখতে চান, তারা বুটিক থ্রিপিস বিবেচনা করতে পারেন।
বুটিক থ্রিপিসে থাকতে পারে—
- হাতে করা নকশা
- এমব্রয়ডারি
- ব্লক বা বাটিক প্রিন্ট
- ডিজিটাল প্রিন্ট
- আয়না বা মিরর ওয়ার্ক
- নকশা করা গলা ও হাতা
- বিশেষ ধরনের ওড়না
- সীমিত রঙের সংগ্রহ
- উৎসব ও অনুষ্ঠানের উপযোগী ডিজাইন
প্রাসঙ্গিক নকশা দেখতে বুটিক থ্রিপিসের সংগ্রহ দেখতে পারেন।
সুতি ও আরামদায়ক থ্রিপিস
বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য সুতি এবং হালকা কাপড়ের থ্রিপিসের নিয়মিত চাহিদা থাকে। দৈনন্দিন ব্যবহার, অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় বা সাধারণ বাইরে যাওয়ার পোশাক হিসেবে এ ধরনের থ্রিপিস বিক্রি করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
বেছে নেওয়ার সময় দেখুন—
- কাপড় বাতাস চলাচলযোগ্য কি না
- অতিরিক্ত ভারী কি না
- ধোয়ার পরে সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি আছে কি না
- দীর্ঘ সময় পরলে আরামদায়ক কি না
- ঘাম হলে রং ছড়ানোর আশঙ্কা আছে কি না
এমব্রয়ডারি ও কারুকাজ করা থ্রিপিস
এমব্রয়ডারি, মিরর ওয়ার্ক, জরি বা বিশেষ কারুকাজ করা থ্রিপিস উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও উপহার দেওয়ার জন্য জনপ্রিয় হতে পারে।
এ ধরনের পণ্য কেনার সময় পরীক্ষা করুন—
- এমব্রয়ডারির সুতা আলগা কি না
- আয়না বা অলংকার ভালোভাবে লাগানো কি না
- সামনের ও পেছনের কাজ সমান কি না
- ধোয়ার পরে নকশা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না
- কারুকাজের কারণে কাপড় অস্বস্তিকর হচ্ছে কি না
তৈরি থ্রিপিসের একটি বিস্তারিত পণ্যের উদাহরণ হিসেবে জয়া এমব্রয়ডারি কটন সালোয়ার কামিজ দেখা যেতে পারে।
ডিজিটাল প্রিন্ট থ্রিপিস
ডিজিটাল প্রিন্ট থ্রিপিসে বিভিন্ন রঙ, ফুল, জ্যামিতিক নকশা এবং আধুনিক মোটিফ পাওয়া যায়। অনলাইন ব্যবসায় ছবির মাধ্যমে পণ্য প্রদর্শনের জন্য আকর্ষণীয় প্রিন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে শুধু ছবিতে সুন্দর দেখাচ্ছে বলে অর্ডার করবেন না। সরাসরি পণ্যের রং, ছাপার স্বচ্ছতা এবং কাপড়ের মান যাচাই করুন।
উৎসব ও অনুষ্ঠানের থ্রিপিস
ঈদ, পূজা, বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য বিশেষ সময়ের জন্য তুলনামূলক নকশা করা পোশাকের চাহিদা বাড়তে পারে।
উৎসবের সংগ্রহে রাখা যেতে পারে—
- গাঢ় ও উজ্জ্বল রং
- এমব্রয়ডারি করা কামিজ
- নকশা করা ওড়না
- মিরর ওয়ার্ক
- লেইস ও বর্ডার
- বিশেষ প্রিন্ট
- মার্জিত পার্টি পোশাক
মৌসুমি পণ্য বেশি পরিমাণে নেওয়ার আগে বিক্রির সম্ভাব্য সময় বিবেচনা করুন। মৌসুম শেষ হলে অতিরিক্ত উৎসবের পোশাক বিক্রি কঠিন হতে পারে।
ব্যবসার জন্য সেলাই করা নাকি সেলাইবিহীন থ্রিপিস ভালো?
দুই ধরনের পণ্যেরই আলাদা ক্রেতা রয়েছে। আপনার ব্যবসার ধরন অনুযায়ী নির্বাচন করা উচিত।
| বিবেচনার বিষয় | সেলাই করা থ্রিপিস | সেলাইবিহীন থ্রিপিস |
| বিক্রির প্রস্তুতি | সরাসরি বিক্রি করা যায় | সেলাই করার প্রয়োজন হয় |
| মাপ | নির্দিষ্ট সাইজ থাকে | নিজের মাপে তৈরি করা যায় |
| লক্ষ্য ক্রেতা | তৈরি পোশাক পছন্দ করেন এমন ক্রেতা | কাস্টম ফিট চান এমন ক্রেতা |
| বুটিকের সুযোগ | সীমিত পরিবর্তন করা যায় | নিজস্ব কাটিং ও ডিজাইন করা যায় |
| অনলাইন বিক্রি | সাইজ চার্ট প্রয়োজন | কাপড়ের মাপ ও বিবরণ প্রয়োজন |
| ফেরত বা পরিবর্তন | সাইজসংক্রান্ত সমস্যা হতে পারে | কাপড় কাটার আগে যাচাই জরুরি |
| পুনরায় বিক্রি | দ্রুত করা সম্ভব | দর্জি ও কাস্টমাইজেশনভিত্তিক হতে পারে |
নতুন ব্যবসায়ী হলে একটি বিভাগে সম্পূর্ণ নির্ভর না করে অল্প পরিমাণে সেলাই করা ও সেলাইবিহীন—দুই ধরনের পণ্য পরীক্ষা করতে পারেন।
ঢাকার পাইকারি থ্রিপিস হোলসেল কোথায় পাওয়া যায়?
ঢাকায় থ্রিপিস ও নারীদের পোশাকের জন্য কয়েকটি বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকা পরিচিত।
গাউছিয়া মার্কেট
থ্রিপিস, সালোয়ার কামিজ, শাড়ি, কুর্তি, গজ কাপড় এবং নারীদের বিভিন্ন পোশাকের জন্য গাউছিয়া পরিচিত। একই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের দোকান থাকায় মূল্য ও নকশা তুলনা করা যায়।
নিউমার্কেট
বিভিন্ন বাজেটের তৈরি পোশাক, থ্রিপিস, কাপড় এবং ফ্যাশন পণ্য পাওয়া যায়। নতুন ব্যবসায়ীরা বাজারের বর্তমান ডিজাইন ও সম্ভাব্য মূল্য সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন।
চাঁদনী চক এলাকা
নারীদের পোশাক, গজ কাপড়, ব্লাউজের কাপড় এবং পোশাক তৈরির বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যেতে পারে।
সায়েন্সল্যাব ও মিরপুর রোড এলাকা
এই এলাকায় পোশাকের শোরুম, বিপণিবিতান এবং ফ্যাশন ব্যবসা রয়েছে। নিউমার্কেট ও সায়েন্সল্যাবের মধ্যবর্তী অবস্থান হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে যাতায়াত করা তুলনামূলক সুবিধাজনক।
ঢাকার পাইকারি থ্রিপিস হোলসেলের জন্য বিডি মেড ফ্যাশন
বাজারে একাধিক দোকান ঘুরে পণ্য তুলনা করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট পোশাক সরবরাহকারী বা শোরুম থেকেও সংগ্রহ দেখা যেতে পারে।
বিডি মেড ফ্যাশন নারীদের সালোয়ার কামিজ, সেলাই করা পোশাক, সেলাইবিহীন পোশাক এবং বুটিক সংগ্রহ অনলাইনে দেখার সুযোগ দেয়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে আমাদের সম্পর্কে পেজ দেখা যেতে পারে।
আমাদের ঠিকানা
বিডি মেড ফ্যাশন
গোল্ডেন গেইট শপিং সেন্টার
২৮ মিরপুর রোড, ঢাকা–১২০৫
ল্যান্ডমার্ক
- সায়েন্সল্যাব থেকে নিউমার্কেটের দিকে যেতে ঠিক মাঝামাঝি
- সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের বিপরীতে
- ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংক নিউমার্কেট শাখার নিচে
শোরুমে আসার আগে পণ্যের প্রাপ্যতা, পাইকারি অর্ডারের নিয়ম, ন্যূনতম পরিমাণ এবং খোলার সময় জানতে বিডি মেড ফ্যাশনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
পুরান ঢাকা থেকে বিডি মেড ফ্যাশনে কীভাবে আসবেন
পুরান ঢাকার সদরঘাট, বাংলাবাজার, চকবাজার, লালবাগ, বকশীবাজার, ওয়ারী, টিকাটুলি বা গেন্ডারিয়া এলাকা থেকে বাস, রিকশা, সিএনজি অথবা রাইড-শেয়ারিং সার্ভিস ব্যবহার করে সহজেই বিডি মেড ফ্যাশনে আসবেন।
সদরঘাট ও বাংলাবাজার থেকে আসবেন যেভাবে
সদরঘাট বা বাংলাবাজার থেকে রিকশা, সিএনজি অথবা রাইড-শেয়ারিং সার্ভিসে প্রথমে বকশীবাজার, আজিমপুর বা নীলক্ষেত আসবেন। এরপর নিউমার্কেট হয়ে সায়েন্সল্যাবের দিকে যাবেন।
সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের বিপরীতে গোল্ডেন গেইট শপিং সেন্টারে বিডি মেড ফ্যাশন অবস্থিত।
চালককে বলবেন:
“সায়েন্সল্যাব ও নিউমার্কেটের মাঝামাঝি, টিচার্স ট্রেনিং কলেজের বিপরীতে গোল্ডেন গেইট শপিং সেন্টারে যাব।”
চকবাজার, লালবাগ ও বকশীবাজার থেকে আসবেন যেভাবে
চকবাজার বা লালবাগ থেকে রিকশা অথবা সিএনজিতে আজিমপুর–নীলক্ষেত–নিউমার্কেট হয়ে আসবেন। আজিমপুর থেকে নীলক্ষেত, নিউমার্কেট ও সিটি কলেজমুখী স্থানীয় পরিবহন পাওয়া যায়।
আপনি নিচের যেকোনো স্থানে নামতে পারেন—
- নিউমার্কেট
- নীলক্ষেত
- সিটি কলেজের সামনে
তারপর সায়েন্সল্যাবের দিকে কিছুটা এগিয়ে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের বিপরীতে গোল্ডেন গেইট শপিং সেন্টারে আসবেন।
ওয়ারী, টিকাটুলি ও গেন্ডারিয়া থেকে আসবেন যেভাবে
ওয়ারী, টিকাটুলি বা গেন্ডারিয়া থেকে প্রথমে গুলিস্তান আসবেন। গুলিস্তান থেকে চাঁনখারপুল, বকশীবাজার, আজিমপুর, নীলক্ষেত ও নিউমার্কেটের দিকে চলাচলকারী বাসে উঠবেন।
এই করিডরের বাসগুলো সাধারণত নিচের রুট ব্যবহার করে—
চাঁনখারপুল → বকশীবাজার → আজিমপুর → নীলক্ষেত → নিউমার্কেট → সিটি কলেজ
নিউমার্কেট বা সিটি কলেজ স্টপেজে নামবেন। সেখান থেকে রিকশায় অথবা হেঁটে টিচার্স ট্রেনিং কলেজের বিপরীতে গোল্ডেন গেইট শপিং সেন্টারে আসবেন।
মেট্রোরেলে আসবেন যেভাবে
পুরান ঢাকা থেকে বিডি মেড ফ্যাশন পর্যন্ত সরাসরি মেট্রোরেল নেই। তবে মতিঝিল বা বাংলাদেশ সচিবালয় এলাকা থেকে মেট্রোরেলে উঠলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অথবা শাহবাগ স্টেশনে নামবেন।
এরপর রিকশা, সিএনজি বা রাইড-শেয়ারিং সার্ভিসে নিউমার্কেট–সায়েন্সল্যাব এলাকায় আসবেন। শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমআরটি লাইন–৬-এর স্টেশন।
যাত্রার সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা
| যাত্রার স্থান | সম্ভাব্য রুট | কোথায় নামবেন |
| সদরঘাট | বাংলাবাজার–বকশীবাজার–আজিমপুর–নীলক্ষেত | নিউমার্কেট বা সিটি কলেজ |
| বাংলাবাজার | বকশীবাজার–আজিমপুর–নীলক্ষেত | নিউমার্কেট |
| চকবাজার | আজিমপুর–নীলক্ষেত–নিউমার্কেট | নিউমার্কেট বা সিটি কলেজ |
| লালবাগ | আজিমপুর–নীলক্ষেত–নিউমার্কেট | নিউমার্কেট |
| বকশীবাজার | আজিমপুর–নীলক্ষেত–নিউমার্কেট | নিউমার্কেট |
| ওয়ারী | গুলিস্তান–চাঁনখারপুল–আজিমপুর–নীলক্ষেত | নিউমার্কেট বা সিটি কলেজ |
| টিকাটুলি | গুলিস্তান–চাঁনখারপুল–বকশীবাজার | নিউমার্কেট |
| গেন্ডারিয়া | গুলিস্তান–আজিমপুর–নীলক্ষেত | নিউমার্কেট বা সিটি কলেজ |
| মতিঝিল | মেট্রোরেলে শাহবাগ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | এরপর রিকশা বা সিএনজি |
| সচিবালয় | মেট্রোরেলে শাহবাগ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | এরপর রাইড-শেয়ারিং |
দ্রষ্টব্য: ঢাকার যানজট, সড়ক পরিস্থিতি এবং পরিবহন রুট পরিবর্তিত হতে পারে। যাত্রার আগে মানচিত্র, বর্তমান ট্রাফিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় পরিবহনের রুট যাচাই করা ভালো।
কেন ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট থ্রিপিস সরবরাহকারী খুঁজছেন?
সরাসরি বাজারে গিয়ে পণ্য কেনার অনেক সুবিধা থাকলেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
যেমন—
- ভিড়ের মধ্যে পণ্য নির্বাচন করা কঠিন
- একাধিক দোকান ঘুরতে অনেক সময় লাগে
- একই ধরনের পণ্যের মান তুলনা করা জটিল
- একটি ডিজাইন পরে আবার পাওয়া নাও যেতে পারে
- দোকানের যোগাযোগের তথ্য হারিয়ে যেতে পারে
- অনলাইনে আগে থেকে পণ্য দেখার সুযোগ নাও থাকতে পারে
- পণ্যের কাপড় ও মাপ সম্পর্কে লিখিত তথ্য পাওয়া কঠিন হতে পারে
- দূরের ব্যবসায়ীদের বারবার বাজারে আসা সম্ভব হয় না
এ কারণে অনেক ব্যবসায়ী এমন সরবরাহকারী খোঁজেন, যেখানে—
- অনলাইনে পণ্যের নকশা দেখা যায়
- সেলাই করা ও সেলাইবিহীন বিভাগ আলাদা থাকে
- পণ্যের কাপড় ও অংশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়
- সরাসরি যোগাযোগ করা যায়
- প্রাপ্যতা সম্পর্কে আগে থেকে জানা যায়
- শোরুমে গিয়ে পণ্য যাচাই করা যায়
- পুনরায় অর্ডারের সম্ভাবনা সম্পর্কে আলোচনা করা যায়
কেন বিডি মেড ফ্যাশন বিবেচনা করতে পারেন?
ব্যক্তিগত ব্যবহার, অনলাইন ব্যবসা, বুটিক বা পুনর্বিক্রয়ের জন্য থ্রিপিস খুঁজলে বিডি মেড ফ্যাশনের সংগ্রহ দেখা যেতে পারে।
সুবিধাজনক অবস্থান
শোরুমটি নিউমার্কেট ও সায়েন্সল্যাবের মাঝামাঝি হওয়ায় গাউছিয়া, নীলক্ষেত, ধানমন্ডি, আজিমপুর এবং পুরান ঢাকা থেকে আসা যায়।
অনলাইনে পণ্য দেখার সুযোগ
শোরুমে যাওয়ার আগে Saree Mela-এর ওয়েবসাইট-এ বিভিন্ন ধরনের সালোয়ার কামিজ, থ্রিপিস ও অন্যান্য ফ্যাশন পণ্য দেখে নিতে পারেন। এতে সম্ভাব্য ডিজাইন, রঙ, কাপড় এবং পণ্যের ধরন সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়, ফলে শোরুমে গিয়ে পছন্দের পোশাক নির্বাচন করা আরও সহজ হয়।
আলাদা পণ্য বিভাগ
ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী নিচের বিভাগগুলো দেখতে পারেন—
- সম্পূর্ণ সালোয়ার কামিজ সংগ্রহ
- সেলাই করা সালোয়ার কামিজ
- সেলাইবিহীন সালোয়ার কামিজ
- বুটিক থ্রিপিস
- সম্পূর্ণ অনলাইন শপ
বিস্তারিত পণ্যের তথ্য
পণ্যভেদে কাপড়, রং, কামিজ, সালোয়ার, ওড়না, নকশা, মাপ এবং যত্নের নির্দেশনা দেখা যেতে পারে। এতে শোরুমে যাওয়ার আগে প্রাথমিকভাবে পণ্য বাছাই করা সহজ হয়।
সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা
পাইকারি অর্ডারের পরিমাণ, পণ্যের বর্তমান প্রাপ্যতা, মূল্য এবং শোরুমে আসার সময় সম্পর্কে কনট্যাক্ট পেজের মাধ্যমে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
পাইকারি থ্রিপিস হোলসেল কিনতে কত টাকা লাগে?
পাইকারি থ্রিপিসের নির্দিষ্ট একটি মূল্য নেই। একই ধরনের পোশাকের দামও কাপড়, নকশা, সেলাই এবং অর্ডারের পরিমাণ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
মূল্য নির্ধারণে সাধারণত যেসব বিষয় প্রভাব ফেলে—
- কাপড়ের ধরন
- কাপড়ের গুণমান
- সেলাই করা নাকি সেলাইবিহীন
- ডিজিটাল প্রিন্ট
- এমব্রয়ডারি বা কারুকাজ
- ওড়নার কাপড়
- পোশাকের অংশের সংখ্যা
- সাইজ
- একই নকশার রঙের সংখ্যা
- অর্ডারের পরিমাণ
- মৌসুমি চাহিদা
- সরবরাহকারীর মূল্যনীতি
- মোড়কজাত করার খরচ
- পরিবহন ও কুরিয়ার খরচ
- পরিবর্তন বা ফেরতের সুবিধা
সাধারণ দৈনন্দিন থ্রিপিস তুলনামূলক কম দামের হতে পারে। উন্নতমানের কাপড়, ভারী এমব্রয়ডারি, বিশেষ ওড়না, বুটিক ডিজাইন অথবা উৎসবের পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
দ্রষ্টব্য: ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত খুচরা বা অফার মূল্যকে সরাসরি পাইকারি মূল্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। বড় অর্ডারের আগে বর্তমান পাইকারি মূল্য, ন্যূনতম অর্ডার এবং অতিরিক্ত খরচ সরাসরি নিশ্চিত করুন।
পাইকারি থ্রিপিস কেনার আগে কী কী দেখবেন?
শুধু কম দাম দেখে থ্রিপিস কেনা উচিত নয়। ব্যবসায় লাভ, পুনরায় বিক্রি এবং ক্রেতার সন্তুষ্টি পণ্যের মানের ওপর নির্ভর করে।
১. কাপড়ের মান
কাপড় হাতে নিয়ে পরীক্ষা করুন—
- কাপড় আরামদায়ক কি না
- অতিরিক্ত পাতলা কি না
- বুনন সমান কি না
- দাগ বা ছিদ্র আছে কি না
- সহজে কুঁচকে যায় কি না
- ধোয়ার পরে সংকুচিত হতে পারে কি না
- রং ওঠার আশঙ্কা আছে কি না
- কাপড়ের দুই পাশের মান সমান কি না
২. সেলাইয়ের মান
সেলাই করা থ্রিপিস হলে দেখুন—
- সেলাই সোজা ও সমান কি না
- সুতা বের হয়ে আছে কি না
- গলা ও হাতার কাজ পরিষ্কার কি না
- পাশের সেলাই মজবুত কি না
- পোশাকের দুই পাশ সমান কি না
- বোতাম বা চেইন ঠিক আছে কি না
- প্যান্টের ইলাস্টিক বা কোমরের কাজ ঠিক আছে কি না
৩. পোশাকের সম্পূর্ণ অংশ
থ্রিপিসের সব অংশ আছে কি না নিশ্চিত করুন—
- কামিজ
- সালোয়ার বা প্যান্ট
- ওড়না
সেলাইবিহীন হলে প্রতিটি অংশের কাপড়ের পরিমাণ পর্যাপ্ত কি না যাচাই করুন।
৪. নকশা ও বাজারচাহিদা
নিজের পছন্দের পাশাপাশি লক্ষ্য ক্রেতাদের পছন্দ বিবেচনা করুন।
বেছে নিতে পারেন—
- দৈনন্দিন সাধারণ নকশা
- ফুলের প্রিন্ট
- জ্যামিতিক নকশা
- হালকা এমব্রয়ডারি
- অফিস উপযোগী রং
- উৎসবের গাঢ় রং
- বয়সভেদে উপযুক্ত নকশা
- মার্জিত ও সহজে বিক্রয়যোগ্য ডিজাইন
৫. রঙের বৈচিত্র্য
একই নকশার বিভিন্ন রং থাকলে ক্রেতাদের পছন্দের সুযোগ বাড়ে। তবে একটি রঙের অতিরিক্ত পণ্য না নিয়ে কয়েকটি গ্রহণযোগ্য রঙের সমন্বয় রাখা ভালো।
৬. সাইজের বৈচিত্র্য
সেলাই করা থ্রিপিস কিনলে সাইজের অনুপাত পরিকল্পনা করুন। শুধু একটি সাইজ বেশি পরিমাণে নিলে অন্য ক্রেতাদের কাছে বিক্রির সুযোগ কমে যেতে পারে।
জেনে নিন—
- কোন কোন সাইজ পাওয়া যায়
- সাইজ চার্ট সঠিক কি না
- এক ডিজাইনে সব সাইজ পাওয়া যায় কি না
- সাইজ পরিবর্তনের সুযোগ আছে কি না
- মাপ নেওয়ার নিয়ম কী
৭. ন্যূনতম অর্ডারের পরিমাণ
অর্ডারের আগে প্রশ্ন করুন—
- সর্বনিম্ন কতটি নিতে হবে
- মিশ্র ডিজাইন নেওয়া যাবে কি না
- একই ডিজাইনের সব রং নিতে হবে কি না
- সাইজ মিলিয়ে নেওয়া যাবে কি না
- বড় অর্ডারে মূল্য পরিবর্তিত হবে কি না
৮. ত্রুটিপূর্ণ পণ্য পরিবর্তনের নিয়ম
কেনার আগে নিশ্চিত করুন—
- ত্রুটিপূর্ণ পণ্য পরিবর্তন করা যাবে কি না
- কত দিনের মধ্যে জানাতে হবে
- ক্রয় রসিদ প্রয়োজন হবে কি না
- ধোয়া বা ব্যবহৃত পণ্য পরিবর্তন করা যাবে কি না
- পরিবহনে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের দায়িত্ব কার
- ভুল সাইজ বা ভুল ডিজাইন এলে কী ব্যবস্থা থাকবে
৯. পরিবহন ও মোড়কজাত করার খরচ
পণ্য দূরে পাঠাতে হলে নিচের খরচ হিসাব করুন—
- ব্যাগ
- পলিব্যাগ
- কার্টন
- কুরিয়ার
- পরিবহন
- শ্রমিক বা বহন খরচ
- জরুরি সরবরাহের অতিরিক্ত খরচ
বিশ্বস্ত পাইকারি থ্রিপিস সরবরাহকারী কীভাবে নির্বাচন করবেন?
দীর্ঘমেয়াদে পোশাক ব্যবসা করতে চাইলে সরবরাহকারী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একজন দায়িত্বশীল সরবরাহকারী সাধারণত—
- পণ্যের মূল্য পরিষ্কারভাবে জানায়
- কাপড় ও নকশা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেয়
- অর্ডারের শর্ত আগে থেকে ব্যাখ্যা করে
- পণ্য যাচাই করার সুযোগ দেয়
- ত্রুটিপূর্ণ পণ্যের নিয়ম জানায়
- ক্রয় রসিদ বা অর্ডারের প্রমাণ দেয়
- যোগাযোগের তথ্য প্রদান করে
- পণ্যের প্রাপ্যতা সম্পর্কে বাস্তব তথ্য জানায়
- সরবরাহের সম্ভাব্য সময় পরিষ্কার করে
- অতিরঞ্জিত প্রতিশ্রুতি দেয় না
কোনো সরবরাহকারীর সঙ্গে বড় অর্ডার শুরু করার আগে অল্প পরিমাণে পণ্য নিয়ে মান, যোগাযোগ এবং সরবরাহের অভিজ্ঞতা যাচাই করা ভালো।
সাধারণ বাজার নাকি নির্দিষ্ট থ্রিপিস সরবরাহকারী—কোনটি ভালো?
| বিষয় | সাধারণ পাইকারি বাজার | নির্দিষ্ট পোশাক সরবরাহকারী |
| নকশার বৈচিত্র্য | অনেক দোকানে বিভিন্ন ডিজাইন দেখা যায় | বাছাই করা সংগ্রহ পাওয়া যায় |
| মূল্য তুলনা | দোকান ঘুরে তুলনা করতে হয় | সরাসরি মূল্য জানতে চাওয়া যায় |
| সময় | তুলনামূলক বেশি সময় লাগে | আগে থেকে অনলাইনে বাছাই করা যায় |
| ভিড় | ব্যস্ত সময়ে বেশি হতে পারে | তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ |
| পণ্যের তথ্য | দোকানদারের কাছ থেকে জানতে হয় | অনলাইনে কিছু তথ্য দেখা যেতে পারে |
| যোগাযোগ | দোকানভেদে আলাদা | নির্দিষ্ট যোগাযোগব্যবস্থা থাকে |
| পুনরায় অর্ডার | একই পণ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে | প্রাপ্যতা থাকলে যোগাযোগ করা যায় |
| সরাসরি যাচাই | হাতে দেখে কেনা যায় | শোরুমে এসে যাচাই করা যায় |
| অনলাইন সুবিধা | সব দোকানে নাও থাকতে পারে | পণ্য আগে থেকে দেখা যেতে পারে |
দুই ধরনের কেনাকাটারই সুবিধা রয়েছে। নতুন ব্যবসায়ী হলে প্রথমে বাজারের দাম ও নকশা সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। এরপর নিয়মিত অর্ডারের জন্য উপযুক্ত সরবরাহকারীর সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
পাইকারি থ্রিপিস কেনার সময় যেসব ভুল করবেন না
নতুন ব্যবসায়ীরা প্রায়ই কিছু সাধারণ ভুল করেন।
এড়িয়ে চলুন—
- শুধু কম দাম দেখে অর্ডার করা
- কাপড় হাতে নিয়ে যাচাই না করা
- এক দোকানের দাম দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া
- বাজারচাহিদা না বুঝে ডিজাইন নির্বাচন করা
- একই ডিজাইনের অতিরিক্ত পণ্য কেনা
- একই সাইজ বেশি নেওয়া
- ক্রেতাদের বয়স ও পছন্দ বিবেচনা না করা
- শুধু উৎসবের পোশাক সংগ্রহ করা
- ত্রুটিপূর্ণ পণ্যের নিয়ম না জানা
- ক্রয় রসিদ না নেওয়া
- পরিবহন খরচ হিসাব না করা
- অনলাইন ছবির সঙ্গে বাস্তব রং না মেলানো
- সরবরাহকারীর যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ না করা
- বিক্রির তথ্য লিখে না রাখা
- প্রথম অর্ডারেই অতিরিক্ত বিনিয়োগ করা
নতুন থ্রিপিস ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ
নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করলে প্রথমে অল্প পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের পণ্য সংগ্রহ করুন। এতে কোন কাপড়, রং, নকশা ও দামের থ্রিপিসের চাহিদা বেশি তা বোঝা যাবে।
প্রথম অর্ডার পরিকল্পনা
প্রথম অর্ডারে রাখতে পারেন—
- কয়েকটি দৈনন্দিন থ্রিপিস
- কয়েকটি অফিস উপযোগী ডিজাইন
- অল্পসংখ্যক উৎসবের থ্রিপিস
- হালকা এমব্রয়ডারি করা পোশাক
- সেলাই করা ও সেলাইবিহীন দুই ধরনের পণ্য
- বিভিন্ন দামের পণ্য
- কয়েকটি জনপ্রিয় রং
- সীমিত কিন্তু প্রয়োজনীয় সাইজ
বিক্রির তথ্য সংরক্ষণ করুন
প্রতিটি পণ্যের জন্য লিখে রাখুন—
- ক্রয়মূল্য
- পরিবহন খরচ
- বিক্রয়মূল্য
- কোন রং দ্রুত বিক্রি হয়েছে
- কোন সাইজের চাহিদা বেশি
- কোন ডিজাইন অবিক্রীত রয়েছে
- ক্রেতাদের অভিযোগ
- পুনরায় অর্ডারের প্রয়োজন
ছোট পরিমাণ দিয়ে পরীক্ষা করুন
প্রথমবার একটি ডিজাইনের অনেক পণ্য না নিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের অল্পসংখ্যক পণ্য সংগ্রহ করুন। যে পণ্য দ্রুত বিক্রি হয়, পরবর্তী অর্ডারে সেই ধরনের পণ্যের পরিমাণ বাড়াতে পারেন।
মৌসুমি চাহিদা বিবেচনা করুন
ঈদ, বিয়ে বা বিশেষ অনুষ্ঠানের আগে উৎসবের পোশাকের চাহিদা বাড়তে পারে। তবে মৌসুম শেষ হলে বিক্রি কঠিন হতে পারে—এমন ডিজাইন অতিরিক্ত নেওয়া উচিত নয়।
কারা বিডি মেড ফ্যাশন থেকে পণ্যের তথ্য নিতে পারেন?
বিভিন্ন ধরনের ক্রেতা পণ্যের প্রাপ্যতা এবং অর্ডারের নিয়ম সম্পর্কে যোগাযোগ করতে পারেন।
যেমন—
- বুটিক মালিক
- ফেসবুকভিত্তিক পোশাক বিক্রেতা
- অনলাইন শপের মালিক
- খুচরা দোকানি
- নতুন উদ্যোক্তা
- লাইভ বিক্রেতা
- পুনর্বিক্রেতা
- দর্জিভিত্তিক ব্যবসায়ী
- করপোরেট বা গ্রুপ অর্ডারের ক্রেতা
- ব্যক্তিগত ক্রেতা
পাইকারি সুবিধা, ন্যূনতম পরিমাণ এবং বর্তমান পণ্যের প্রাপ্যতা জানতে সরাসরি যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
পাইকারি থ্রিপিস কেনার ছোট যাচাইতালিকা
অর্ডার নিশ্চিত করার আগে মিলিয়ে নিন—
- কাপড়ের মান যাচাই করা হয়েছে কি না
- পোশাকের তিনটি অংশ সম্পূর্ণ আছে কি না
- সেলাই ও শেষের কাজ পরিষ্কার কি না
- নকশার বাজারচাহিদা আছে কি না
- প্রয়োজনীয় রং পাওয়া যাচ্ছে কি না
- সাইজের অনুপাত ঠিক আছে কি না
- পাইকারি মূল্য পরিষ্কার কি না
- ন্যূনতম অর্ডার জানা হয়েছে কি না
- পরিবর্তনের নিয়ম জানা আছে কি না
- পরিবহন খরচ হিসাব করা হয়েছে কি না
- পণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে কি না
- ক্রয় রসিদ বা অর্ডারের প্রমাণ নেওয়া হয়েছে কি না
- সরবরাহকারীর যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না
পাইকারি থ্রিপিস হোলসেল সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসা
১. ঢাকায় পাইকারি থ্রিপিস হোলসেল কোথায় পাওয়া যায়?
ঢাকার গাউছিয়া, নিউমার্কেট, চাঁদনী চক এবং আশপাশের পোশাকের বাজারে বিভিন্ন ধরনের থ্রিপিস পাওয়া যেতে পারে। নির্দিষ্ট শোরুম ও অনলাইন পোশাক সরবরাহকারীদের কাছ থেকেও পণ্যের প্রাপ্যতা সম্পর্কে জানা যায়।
২. অল্প পরিমাণে কি পাইকারি দামে থ্রিপিস কেনা যায়?
এটি বিক্রেতা ও পণ্যের ওপর নির্ভর করে। কোনো সরবরাহকারী নির্দিষ্ট সংখ্যক পণ্য, একটি সম্পূর্ণ ডিজাইন সেট অথবা নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্ডারকে পাইকারি হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন।
৩. সেলাই করা নাকি সেলাইবিহীন থ্রিপিস ব্যবসার জন্য ভালো?
তৈরি পোশাক সরাসরি বিক্রি করতে চাইলে সেলাই করা থ্রিপিস সুবিধাজনক। নিজের ডিজাইন ও মাপ অনুযায়ী পোশাক তৈরি করতে চাইলে সেলাইবিহীন থ্রিপিস উপযোগী।
৪. পাইকারি থ্রিপিসের দাম কত?
কাপড়, নকশা, সেলাই, কারুকাজ, ওড়নার ধরন, অর্ডারের পরিমাণ এবং মৌসুমি চাহিদা অনুযায়ী দাম পরিবর্তিত হয়। অর্ডারের আগে বর্তমান পাইকারি মূল্য যাচাই করুন।
৫. থ্রিপিসের মান কীভাবে যাচাই করব?
কাপড়ের বুনন, পুরুত্ব, রং, ছাপা, দাগ, সেলাই, ওড়নার মান এবং পোশাকের সম্পূর্ণ অংশ পরীক্ষা করুন। সম্ভব হলে প্রথমে অল্প পরিমাণে নমুনা অর্ডার করুন।
৬. একই ডিজাইনের সব রং নিতে হবে কি?
এটি সরবরাহকারীর অর্ডার নীতির ওপর নির্ভর করে। কেউ সম্পূর্ণ রঙের সেট নেওয়ার শর্ত দিতে পারেন, আবার কেউ বিভিন্ন ডিজাইন ও রং মিলিয়ে অর্ডার করার সুযোগ দিতে পারেন।
৭. বিডি মেড ফ্যাশন কোথায় অবস্থিত?
বিডি মেড ফ্যাশন গোল্ডেন গেইট শপিং সেন্টার, ২৮ মিরপুর রোড, ঢাকা–১২০৫-এ অবস্থিত। এটি সায়েন্সল্যাব ও নিউমার্কেটের মাঝামাঝি এবং সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের বিপরীতে।
৮. পুরান ঢাকা থেকে বিডি মেড ফ্যাশনে কীভাবে যাব?
সদরঘাট, বাংলাবাজার, চকবাজার বা লালবাগ থেকে আজিমপুর–নীলক্ষেত–নিউমার্কেট হয়ে আসতে পারেন। ওয়ারী, টিকাটুলি বা গেন্ডারিয়া থেকে গুলিস্তান হয়ে নিউমার্কেট বা সিটি কলেজে এসে শোরুমে যাওয়া যায়।
৯. মেট্রোরেলে কি সরাসরি শোরুমে যাওয়া যায়?
সরাসরি মেট্রোরেল স্টেশন নেই। মতিঝিল বা বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে মেট্রোরেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অথবা শাহবাগ স্টেশনে নেমে রিকশা, সিএনজি বা রাইড-শেয়ারিং সার্ভিসে নিউমার্কেট–সায়েন্সল্যাব এলাকায় আসতে পারেন।
১০. অনলাইনে থ্রিপিসের সংগ্রহ দেখা যায় কি?
হ্যাঁ, বিডি মেড ফ্যাশনের ওয়েবসাইটে সালোয়ার কামিজ, সেলাই করা, সেলাইবিহীন এবং বুটিক থ্রিপিসের বিভিন্ন বিভাগ দেখা যায়। অর্ডারের আগে বর্তমান প্রাপ্যতা ও পাইকারি শর্ত নিশ্চিত করুন।
১১. বড় অর্ডারের আগে নমুনা নেওয়া উচিত কি?
সম্ভব হলে প্রথমে অল্প পরিমাণে পণ্য নেওয়া ভালো। এতে কাপড়, সেলাই, রং, সরবরাহ এবং ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া যাচাই করা যায়।
১২. ত্রুটিপূর্ণ পণ্য পাওয়া গেলে কী করবেন?
পণ্য গ্রহণের পর দ্রুত পরীক্ষা করুন। সমস্যা থাকলে ছবি বা ভিডিওসহ সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অর্ডারের আগে পরিবর্তন বা ফেরতের নিয়ম জেনে রাখুন।
উপসংহার
ঢাকার পাইকারি থ্রিপিস হোলসেল দোকান থেকে পণ্য সংগ্রহের সময় শুধু কম দাম নয়—কাপড়ের মান, সেলাই, নকশার চাহিদা, রঙের বৈচিত্র্য, সাইজ, ন্যূনতম অর্ডার, পরিবর্তনের নিয়ম এবং পরিবহন খরচ বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রথমবার ব্যবসার জন্য পণ্য কিনলে অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করুন। কয়েকটি দোকান ও সরবরাহকারীর মূল্য এবং মান তুলনা করুন। বিক্রির তথ্য লিখে রাখুন এবং ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী পরবর্তী অর্ডার পরিকল্পনা করুন।
গাউছিয়া, নিউমার্কেট বা সায়েন্সল্যাব এলাকায় থ্রিপিস কিনতে এলে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের বিপরীতে গোল্ডেন গেইট শপিং সেন্টারে অবস্থিত বিডি মেড ফ্যাশনের সংগ্রহও দেখতে পারেন।
শোরুমে আসার আগে অনলাইনে থ্রিপিসের সংগ্রহ দেখুন এবং পাইকারি অর্ডার, পণ্যের প্রাপ্যতা ও খোলার সময় জানতে বিডি মেড ফ্যাশনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
যোগাযোগ
BD Made Fashion
Golden Gate Shoping Center, 28 Mirpur Road, Dhaka, Bangladesh
Phone: (+880) 1712-800900
Email: dr.imu71@gmail.com